দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের মুম্বাই পুলিশ অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দিয়েছে। গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কয়েক দিন পর তাকে এই নোটিশ দেওয়া হয়। বিক্ষোভে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন অংশগ্রহণকারীরা।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থনে আয়োজিত ওই বিক্ষোভে ইমরান খানের অংশগ্রহণের পর তার বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে পাওয়া বিশেষ মর্যাদা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিক আইনসংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক বিধান অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়া ইমরান খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।
বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন কি ওসিআই কার্ডধারীরা?
বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের জন্য বিশেষ মর্যাদা বা ওসিআই কার্ডধারীরা ভারতের নাগরিক নন, বরং বিদেশি নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হন। তবে তারা নির্দিষ্ট কিছু সুবিধা পান। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মসাপেক্ষে আজীবন একাধিকবার ভারতে প্রবেশের ভিসা। পাশাপাশি শিক্ষা, সম্পত্তি এবং নির্দিষ্ট কিছু পেশাগত কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও তারা বিশেষ সুবিধা ভোগ করেন।
তবে ভারতের নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৭বি ধারা অনুযায়ী, ওসিআই মর্যাদা রাজনৈতিক অধিকার প্রদান করে না। ভোট দেওয়া, সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হওয়া এবং ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত অধিকারগুলোর ক্ষেত্রে এই কার্ডধারীরা ভারতীয় নাগরিকদের সমান সুযোগ পান না।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ওপর কি সরাসরি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে?
ওসিআই কার্ডধারীদের ক্ষেত্রে সাধারণ জনসমাবেশ বা বিক্ষোভে উপস্থিত থাকাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। শুধু কোনো বিক্ষোভে উপস্থিত থাকা বা জনতার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকলেই তা অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় না।
তবে ওসিআই কার্ডধারীরা বিদেশি নাগরিক হওয়ায় ভারতের বিদেশি নাগরিক ও অভিবাসনসংক্রান্ত আইন মেনে চলতে বাধ্য। নির্দিষ্ট কিছু কারণে তাদের ওসিআই মর্যাদা বাতিল করা যেতে পারে। নাগরিকত্ব আইনের ৭ডি ধারায় ভারতের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়সহ কয়েকটি কারণে এই মর্যাদা বাতিলের বিধান রয়েছে।
২০১৯ সালে লেখক আতিশ তাসিরের ওসিআই কার্ড বাতিল করেছিল ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তার প্রয়াত বাবা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ছিলেন, এই তথ্য গোপন করার অভিযোগে ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কী এই ওসিআই প্রকল্প?
২০০৬ সালে হায়দরাবাদে প্রবাসী ভারতীয় দিবসের সম্মেলনে নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫ সংশোধনের মাধ্যমে ওসিআই প্রকল্প চালু করা হয়।
এই প্রকল্পের আওতায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এমন ব্যক্তিদের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়, যারা ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি বা তার পরে ভারতের নাগরিক ছিলেন অথবা ওই তারিখে ভারতীয় নাগরিক হওয়ার যোগ্যতা রাখতেন। তবে পাকিস্তান, বাংলাদেশ কিংবা কেন্দ্রীয় সরকার সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নির্ধারণ করা অন্য কোনো দেশের নাগরিক বর্তমানে আছেন বা অতীতে ছিলেন, এমন ব্যক্তিরা এই সুবিধার আওতাভুক্ত নন।
ওসিআই মর্যাদাকে দ্বৈত নাগরিকত্ব হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এই মর্যাদার অধিকারীরা ভারতের নাগরিক নন, বরং বিদেশি নাগরিক হিসেবেই গণ্য হন।
/অ